প্রতিমাপূজা কি এবং কেন। জানুন ও যুক্তি দিতে শিখুন।

প্রতিমাপূজা-কি-এবং-কেন। জানুন-ও-যুক্তি-দিতে-শিখুন।

পবিত্র বেদে মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা নাই কি আছে সেটি বলার আগের সবাই যুক্তিতে যাই মূর্তি প্রতিমাতে কিভাবে প্রাণ প্রতিষ্ঠ করা যায়।
প্রতিমা

ওঁ ন তস্য প্রতিমা অস্তি যস্য নাম মহদ্ যশঃ।
হিরণ্যগর্ভ ইত্যেষ মা মা হিংসীদিত্যেষা যস্মান্ন জাত ইত্যেষঃ।।
(যজুর্বেদ ৩২/৩)

অনুবাদঃ— মহতী কীর্তিতেই যাঁহার নামের স্মরণ হয়, তাঁহার গর্ভে জ্যোতিষ্কমণ্ডলী স্থান পাইয়াছে বলিয়া প্রত্যক্ষ, আমাকে তোমা হইতে বিমুখ করিও না - এইরুপ ভাবে যাঁহার প্রার্থনা করিতে হয় এবং জন্মগ্রহণাদি করেন নাই এজন্য যাঁহার উপাসনা বিধেয় সেই পরমাত্মার কোন প্রতিকৃতি বা মূর্ত্তি নাই।
ভাবার্থঃ— পরমাত্মার কোন প্রতিমা নাই। তাহাঁতেই বিশ্ব জগৎ অবস্থিত, এজন্য তিনি প্রত্যক্ষ। পরমাত্মা হইতে যেন বিমুখ না হই-তাহার নিকট এইরুপ প্রার্থনা করিতে হয় এবং জন্ম মৃত্যু তাহাকে গ্রাস করিতে পারে না বলিয়া তিনিই উপাসনার যোগ্য।
(যজুর্বেদ ৩২/৩) এর মন্ত্রটি ব্যাখা করে দিচ্ছি
প্রতিমা নেই সেটি পরমাত্মারকে বুঝিয়ে সেই পরমাত্মার কোন প্রতিকৃতি বা মূর্ত্তি নাই বা থাকে না। যেমন আপনার ভিতরে তাকা আত্মাকে আপনি উপলব্ধি করতে পারবেন কিন্তু তার কোনো মূর্তি বা প্রতিমা নেই তাই পরআত্মাকে একমাত্র উপাসনার মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। আপনার জন্ম মৃত্যুকে গ্রাস করতে পারে না তাই তাহাকে উপাসনার যোগ্য।
আমার একটি কথা
সনাতন হিন্দুদের পূজা উপসনা হচ্ছে বলে তারা এখনো সনাতন হিন্দু পূজা উপসনা এটা না হলে আপনার আর্য সংস্কৃতি সনাতন ধর্ম ঠিকেই থাকতো না।
চিন্তানায়ক স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন
আমেরিকা বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে প্রতিমা পূজার কথা বলেছেন "Hindus are not idol-worship. They are ideal worshipers"
অর্থাৎ হিন্দুরা মূর্তিপূজক নন, তাঁরা আদর্শের পূজারী। প্রতিমা হলো আদর্শ ও সত্যের প্রতিক।
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন—
আমি ভারতবর্ষের এত জায়গায় বেড়িয়েছি, কোথাও তা কাউকে বলতে শুনিনি যে, হে মূর্তি আমি তোমার উপাসনা করছি, হে পাথর আমায় কৃপা কর।
মহর্ষি দয়ানন্দ সরস্বতী বলেছিলেন
তোমরা (muslim রা) যাদেরকে পৌত্তলিক বল, তারা মূর্তিকে ঈশ্বর মনে করে না, বরং মূর্তির সামনে দাড়িয়ে ঈশ্বরের উপাসনা করে, তোমরা যদি মূর্তি ভঙ্গক হয়ে থাক, তাহলে সেই বড় বড় মূর্তি (কাবা) ভঙ্গ কর নাই কেন?
পূজার রেফারেন্স— ঋগ্বেদীয় সর্বানুক্রমণী ব্রাহ্মণে হব্যবাহনী অর্চন দেখুন, পেয়ে যাবেন পূজার সম্পর্কে।
বৈদিক ব্রাহ্মণ গ্রন্থে দেবস্বরূপের সাকারে বর্ণনা আছে।
পবিত্র বেদে যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে ব্যাসদেব ভুল। ব্যাসদেব যদি কেবল সাকার ভাবেন, তবে অবশ্যই ভুল, কারণ সাকার নিরাকার উভয়ই তাঁর স্বরূপ, সকল বৈপরীত্য একমাত্র ব্রহ্মেই প্রকাশিত।
পূজার (রেফারেন্স) আপনি আপনার নিজের বেদ থেকে মিলিয়ে নিন।
ঋকবেদ— ৮/১৮/৩‌ নং মন্ত্র।
যজুর্বেদ— ১৮/১৩ নং মন্ত্র।
যজুর্বেদ— ৮/১৬ নং মন্ত্র।
যজুর্বেদ— ১৩/৪১ নং মন্ত্র।
অথর্ববেদ— ২/৩/৪ নং মন্ত্র।
দেখুন মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা বেদসিদ্ধ ও স্বীকৃত কোথাও মানা করা হয়নি যে মূর্তিপূজা বা প্রতিমাপূজা করতে পারবেন না।
প্রতিমা মূর্তির পূজা হল প্রতীকের মাধ্যমে ঈশ্বরের আরাধনার একটা উপাসনা পদ্ধতি। গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এটাকে ধর্মের সাথে বা মূল ধর্মগ্রন্থ বেদের সাথে সাংঘর্ষিক অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে। মূর্তিপূজা বৈদিক উপাসনা পদ্ধতি যজ্ঞের বিবর্ধিত রুপ, পূজার মধ্যে বৈদিক যজ্ঞ করা হয়। বেদান্তবাদী শংকরাচার্য নিজের মঠ গুলিতে সরস্বতী পূজার প্রচলন করেন এবং পঞ্চমতের পূজা পদ্ধতি প্রচলন করেন। মূর্তি পূজার মত উপাসনা পদ্ধতি নিয়ে আমাদের বেদজ্ঞরা খারাপ কিছু না পেলেও এখনকার আধা শিক্ষিতরা লাফালাফি করছে। পৃথিবীর সকল ধর্মই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে মূর্তির সাহায্যে নিয়ে থাকে। আশ্চর্য ব্যাপার এখনকার হিন্দুরা এই মূর্তি পূজার অর্থ বুঝতে পারছে না, এটার প্রমান পাওয়ার জন্য বেদ গীতা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
মুসলমান, খ্রিস্টানদের প্রবর্তকরা নিরক্ষর ছিল, তাদের জ্ঞানের অভাব অনুসারীদের মধ্যে দেখা যায়, তারা না বুঝে পৃথিবীর সকল ধর্মের (নিজের টা বাদে) নিন্দা করে। এখন দেখছি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দর্শন বেদ, বেদান্তের অনুসারী শিক্ষিত হিন্দুরা মূর্খদের কথায় নিজের ধর্মের উপাসনা পদ্ধতির চুলচেরা বিশ্লেষন করছে। হিন্দুরা কি এখন নিজেরাই কি নিজেদের ব্যবচ্ছেদ করতে ব্যস্ত?
মূর্তি পূজার প্রাণ প্রতিষ্ঠা যুক্তি
ধরেন আপনি একটা বাল্ব তৈরি করেছেন এখন সেই বাল্বটিকে আপনি কিভাবে জ্বালাবেন নিরাকার শক্তি কারেন্ট দ্বারাই তাই না তাহলে আপনি নিজেই বুঝেনিন মূর্তি মধ্যে বেদের মন্ত্র দ্বারাই প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
যেভাবে আপনি একটা বাল্বকে জ্বালনোর জন্য একটি নিরাকার শক্তিকে ব্যবহার করলেন ঠিক তেমনি বেদের মন্ত্রের শক্তি দ্বারাই নিরাকার শক্তিকে আহ্বানে মাধ্যমে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা যায়।
ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি ওঁ শান্তি!
জয় শ্রীরাম
হর হর মহাদেব
শ্রী বাবলু মালাকার
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, চট্টগ্রাম
Previous Post
Next Post
Related Posts